মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

একনজরে পাবনা পৌরসভা

পৌরসভার সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ   পদ্মা যমুনার মিলন মোহনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশের প্রাচীন সমৃদ্ধ জনপদ পাবনা। কিভাবে গড়ে উঠেছিল পাবনা নামের এই সুপ্রাচীন শহরটি এবং কোন সময় থেকে এই ভূ-খন্ডটির নাম পাবনা হয়েছিলো তার সঠিক তথ্য আজও জানা যায়না। একটি স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে পাবনা জেলার গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৮২৮ খ্রীস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর। রাজশাহী বিভাগের পাঁচটি থানা (পাবনা, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, মথুরা, ক্ষেতুপাড়া) ও যশোহরের তিনটি থানা {ধরমপুর (পাংসা), কুষ্টিয়া ও মধুপুর} নিয়ে সর্ব প্রথম এই জেলা গঠিত হয়। উপমহাদেশে পৌরসভা আধুনিক কালের একটি শহুরে প্রতিষ্ঠান। মুঘল রাজত্বের পতনোন্মুখকালে ১৭২৭ খ্রিষ্টাব্দে রাজকীয় চার্টারের বলে যখন প্রেসিডেন্সি শহরে মেয়র নিযুক্ত করা হয় তখন এর প্রথম প্রকাশ ঘটে। শহরের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, রাস্তা-ঘাট মেরামত,রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব এঁদের উপর অর্পিত হয়। ব্যয় নির্বাহের জন্য জমি ও গৃহবাসীদের উপর কর আরোপিত হয়েছিল। ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে আইন দ¦ারা শহর সমূহে চৌকিদার নিযুক্তির ব্যবস্থা হলে প্রেসিডেন্সি শহর ব্যতীত অন্যান্য শহরে পৌরসভা স্থাপনের সূচনা হয়। ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দের জেলা শহর আইন অনুসারে শহর কমিটি গঠনের ব্যবস্থা হয়। এর পরে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের আইন জেলা ও মহকুমার শহর কমিটিগুলোকে পৌর কমিটিতে রূপান্তরিত করে (এই আইনের বলেই ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১ জুলাই পাবনা পৌরসভার আত্মপ্রকাশ ঘটে)। বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদে প্রনীত ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দের ৭ নং আইনের বিধান বলে, ইছামতির দু’পার ঘিরে গড়ে ওঠা জনবসতিটিকে আবর্তন করে পাবনা টাউন কমিটি গঠন করা হয়। ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দের ১ এপ্রিল পাবনা শহর কমিটি গঠন করা হয়। স্রোতসিনী ইছামতি নদীর দু’পার ঘিরে আবর্তিত জনপদের মানুষের শ্রমে বিনির্মিত পাবনাকে পৌরসভার (মিউনিসিপ্যালিটি) মর্যাদায় অভিসিক্ত করা হয় ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১ জুলাই। এর আাগেই ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে পাবনাকে টাউন কমিটির আওতায় আনা হয়। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ৩১আগষ্ট পাবনা মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম অধিবেশনে কোলকাতা থেকে সীলমোহর বানিয়ে আনা, ৫ টাকা ব্যয়ে রাস্তা ও নর্দমার জঙ্গল পরিস্কার করার জন্য ৪ জন মজুর নিয়োগ ও ২ জন পিয়ন সহ ৮ টাকা বেতনে টিকাদার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শুরু হয় মিউনিসিপ্যালিটির যাত্রা। পাবনা মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করবার সুযোগ আসে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠার পর তিন দশকের বেশীকাল ধরে সরকারী পছন্দানুসারে মিউনিসিপ্যালিটি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়ে এসেছে। ১৯০৮ সালে প্রথম সরাসরি ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। ১৯০৮ সাল থেকে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে যাহারা চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁরা হলেন পাবনা উকিল বারের সদস্য মৌলভি ওয়াছিম উদ্দিন আহমেদ বি,এল, ডাঃ হেমচন্দ্র ভৌমিক (দীর্ঘ ১৬ বছর অর্থ্যাৎ চার মেয়াদে পাবনা মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন), অধ্যাপক রায় রাধিকানাথ বোস বাহাদুর, উকিল বাবু আশুতোষ রায়, এ.এম.আব্দুল হামিদ, উকিল এম.রজব আলী, উকিল খান সাহেব আব্দুল আজিজ খান, তিনিই ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের (স্বাধীনতার পূর্বকালের) সর্বশেষ নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এর পরবর্তীতে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের ১ জুন থেকে ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জেলা প্রশাসক বা মনোনীত কোন কর্মকর্তা পদাধিকারবলে চেয়রম্যানের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। সর্বমোট ২২ জন এভাবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পাবনা পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে চেয়ারম্যানগণ হলেন অধ্যক্ষ আব্দুল গণি, শ্রী বীরেশ চন্দ্র মৈত্র, এম,এ মুহিত, মোঃ জহুরুল ইসলাম বিশু (তাঁর আমলেই পাবনা পৌরসভা ১ম শ্রেণীতে উন্নীত হয়), এ্যাডভোকেট শেখ শহীদুল্লাহ বাচ্চু, মোঃ মোশারফ হোসেন। তাঁরা তাঁদের দায়িত্বকালীন সময়ে পাবনা পৌরসভায় বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সম্পাদন করেছেন। এদেরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী মেয়াদে ২০০৪ সালে চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হন তরুন প্রজম্মের জনপ্রিয় প্রতিনিধি কামরুল হাসান মিন্টু। ইতোমধ্যে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সম্প্রসারণ, ভাঙ্গাচোরা সড়ক পুণঃনির্মাণ, নর্দমা সংস্কারে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপ পৌরবাসীকে তাঁর প্রতি আস্থাশীল করে রেখেছে। তার সময়ে BMDF ও UGIIP নামে দুইটি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। ২০১১ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনেও জনপ্রিয় এই ব্যক্তিত্ব পাবনা পৌরসভার মেয়র পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পুণঃনির্বাচিত হয়েছেন। আগামীতে আরোও বেশী উন্নয়ন কর্মকান্ড তাঁর কাছে পৌরবাসীরা উপহার পাবেন বলেই বিশ্বাস। এক্ষেত্রে তিনি সরকার, পৌর পরিষদ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সর্বপরি পৌরবাসির সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। পাবনা পৌরসভার বর্তমান জনসংখ্যা আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো ও ভৌগলিক অবস্থানের গুরুত্ব বিবেচনা করে ইহা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণের দাবি রাখে।